নিজেস্ব প্রতিবেদন, অজানা বাংলা: নদীর পাড়ে চলছিল বনভোজন। কিন্তু হঠাৎই এক বাঘের গর্জনে সব কিছু গেল ভেস্তে। এমনি ঘটনা ঘটেছে রবিবার সকালে কুলতলিতে শেখপাড়া জঙ্গল সংলগ্ন এলাকায়। জানা গেছে এদিন সকালে ওই এলাকায় হঠাৎই একটি রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার গর্জন করে ওঠে। আর তাতেই গোটা এলাকায় বেড়ে যায় আতঙ্ক।
এদিকে বাঘের গর্জন শুনে বাঘের সন্ধানে বেরিয়ে পড়ে গ্রামবাসীরা। তারা বাঁশ, লাঠি নিয়ে শুরু করে বাঘের সন্ধান। আর ঠিক সেই সময়েই এক ব্যক্তিকে আঘাত করে ওই বাঘ বলে খবর। কিন্তু সেই বাঘের এখনো কোন সন্ধান পায়নি বন দপ্তরের কর্মীরা। এদিকে সূত্রের খবর দীর্ঘ চারদিন ধরে কুলতলির বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে বেড়াচ্ছে ওই বাঘটি।
আর সেই বাঘকে ধরার জন্য বিস্তর আয়োজন করা হয়েছে বনদপ্তরের পক্ষ থেকে। কিন্তু এতো আয়োজনের পরেও দেখা মিলছে না রয়্যাল বেঙ্গল বাবাজির। আর তার সন্ধানে আপাতত বন দফতরের তরফে সতর্ক বার্তা চালানো হচ্ছে কুলতলীর ওই গ্রামে। শুধু তাই নয় বাঘটিকে খাঁচায় বন্দি করার জন্য ইতিমধ্যে দুটি খাঁচাও পাতা হয়েছে বনদপ্তরের পক্ষ থেকে। পাশাপাশি টোপ হিসাবে নাকি দুটি ছাগলকেও ব্যাবহার করেছে বনদপ্তর।
পাশাপাশি গোটা এলাকাকে ইতিমধ্যে ঘিরে রাখা হয়েছে জাল দিয়ে। কিন্তু এতো আয়োজনের পরেও লুকোচুরি খেলেই চলেছে সেই বাঘ বাবাজি। তবে সেই বাঘের পায়ের ছাপ পাওয়া গিয়েছে পিয়ালি নদীর ধারেও। আর তাতেই বেড়েছে আরো আতঙ্ক। এদিকে বাঘের সন্ধানে ইতিমধ্যে ড্রোনকেও কাজে লাগিয়েছে বনদপ্তর। ড্রোন উড়িয়ে খোঁজ চালানো হচ্ছে বাঘের। পাশাপাশি নদীর জলে ইতিমধ্যে নামানো হয়েছে স্পিড বোটও। আর সেখান থেকেই বাঘের উপর নজরদারি চালাচ্ছে বন দপ্তর।
এদিকে সূত্রের খবর, শেখপাড়া ও কেল্লার জঙ্গলেই লুকিয়ে থাকতে পারে ওই বাঘটি এমনি অনুমান বনদপ্তরের। আর সেই জন্যই স্থানীয় ডোঙ্গাজোড়া গ্রামে তল্লাশি চালাচ্ছে বন দপ্তরের কর্মীরা। এদিকে চারদিন হয়ে গেলেও কেন এখনও বাঘ ধরা গেল না? তা নিয়ে উঠছে নানান। পাশাপাশি বাঘের আতঙ্কে ক্ষোভ বাড়ছে গ্রামবাসীদের মধ্যেও। যদিও গ্রামবাসীদের সতর্ক থাকতে পরামর্শ দিয়েছে বন দফতরের কর্মীরা।
এদিকে বনদপ্তরের প্রাথমিক অনুমান ওই এলাকাটি ঘন বন থাকায় বাঘটি সেই বনের মধ্যেই ঘুরে বেড়াচ্ছে বলে তাদের অনুমান।