BREAKING

Monday, 23 May 2022

পঞ্চায়েত যুদ্ধ ২০২৩: উলুবেড়িয়া-২ এর রঘুদেবপুর গ্রাম পঞ্চায়েত


নিজেস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: আর কয়েক মাস পরেই রাজ্যে অনুষ্ঠিত হতে চলেছে রাজ্যের পঞ্চায়েত নির্বাচন। আর তার আগে রাজ্যের বিভিন্ন জেলার বিভিন্ন গ্রাম পঞ্চায়েতের তথ্য তুলে ধরবো আমরা। কথা বলবো সেখানকার সাধারণ মানুষ থেকে সেই গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান, উপ প্রধানদের সঙ্গে। জানবো সেখানকার বিগত দিনের উন্নয়ন থেকে শুরু করে সেখানকার পিছিয়ে পড়া এলাকার কথা। আর সেই কথা জানতে আজ আমরা গ্রামীণ হাওড়ার উলুবেড়িয়া-২ নম্বর ব্লকের রঘুদেবপুর গ্রাম পঞ্চায়েতে।

২২ আসন বিশিষ্ট এই রঘুদেবপুর গ্রাম পঞ্চায়েত বর্তমানে শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস দ্বারা পরিচালিত। ২০১৮ সালের নিরিখে এই গ্রাম পঞ্চায়েতে তৃণমূল কংগ্রেস ১৪ টি আসন দখল করে। বিজেপি পায় ০৫ টি ও বামেরা পায় ০৩ টি আসন পায় বলে সূত্রের খবর। এদিকে বর্তমানে এই গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান হিসাবে দায়িত্ব ভার সামলাচ্ছেন তিথি দোলুই, উপ প্রধানের দায়িত্ব সামলাচ্ছেন শেখ জুবের আলম ও বিরোধী দলনেতা হিসাবে দায়িত্ব পালন করছেন অভিজিৎ সানা। বর্তমানে এই গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় মোট জন সংখ্যা প্রায় ২৯,৩৭০ জন (২০১১ নিরিখে)। পাশাপাশি বর্তমানে এই গ্রাম পঞ্চায়েতের ভোটার সংখ্যা প্রায় ২৪৩৫৬ জন।

 আর হাওড়ার গ্রামীণ ক্ষেত্রের এই রঘুদেবপুর গ্রাম পঞ্চায়েত সম্পর্কে জানতে আমরা সোমবার কথা বলেছিলাম রঘুদেবপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের উপ প্রধান শেখ জুবের আলমের সঙ্গে।
সমগ্ৰ গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার উন্নয়ন প্রসঙ্গে তাকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, গোটা রঘুদেবপুর গ্রাম পঞ্চায়েতে গত চার বছরের কিছু বেশি সময়কালে আমাদের তৃণমূল কংগ্রেস পরিচালিত পঞ্চায়েত বোর্ড ব্যাপক কাজ করেছে। শতাংশের নিরিখে তা ৮৫-৯০ শতাংশ। পাশাপাশি পঞ্চায়েত এলাকার রাস্তাঘাট প্রসঙ্গে তাকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, রঘুদেবপুর পঞ্চায়েত এলাকার প্রায় ৯৭ শতাংশ রাস্তাঘাট পাকা। বর্তমানে এই গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় প্রায় ২১৩ টি পাকা রাস্তা আছে।

তবে এলাকার নিকাশি সম্পর্কে তাকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, আগের বাম ও বিজেপি পরিচালিত পঞ্চায়েত বোর্ড নিকাশির জন্য কোন রূপরেখা করে যায়নি। তাই রূপরেখা না থাকার কারণে পঞ্চায়েত এলাকায় রয়েছে নিকাশি ব্যবস্থার সমস্যা। তবে সমস্যা সমাধানের জন্য কাজ শুরু করেছে আমাদের পঞ্চায়েত বোর্ড। আশাকরি দ্রুত সেই সমস্যা সমাধান হবে। অন্যদিকে পানীয় জল সম্পর্কে তার কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, বর্তমানে আমাদের এলাকায় কোন পানীয় জলের সমস্যা নেই। কারণ পঞ্চায়েতের পক্ষ থেকে প্রতি পাড়ায় পাড়ায় টিউবওয়েল তৈরি করে দেওয়া হয়েছে। গোটা পঞ্চায়েত এলাকায় প্রায় ৩৫৬ টি টিউবওয়েল রয়েছে। তবে বাড়ি বাড়ি পাইপ লাইনের মাধ্যমে পরিশুদ্ধ পানীয় জল এখনো পৌঁছে দেওয়া যায়নি। পিএইচই দপ্তরের উদ্যোগে আমাদের সেই কাজ চলছে, খুব দ্রুত আমরা রঘুদেবপুরবাসীর বাড়ি বাড়ি পাইপ লাইনের মাধ্যমে পরিশুদ্ধ পানীয় জল পৌঁছে দিতে পারবো।

পাশাপাশি উন্নয়নই তৃণমূল পরিচালিত এই পঞ্চায়েতের প্লাস পয়েন্ট বলে জানান রঘুদেবপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের উপ প্রধান শেখ জুবের আলম। শুধু তাই নয় তাদের পরিচালিত এই গ্রাম পঞ্চায়েতে কোন মাইনাস পয়েন্ট নেই বলেও জানান তিনি। পাশাপাশি তিনি আরো বলেন, গ্রাম পঞ্চায়েতে যেকোনো বিষয়ে সমান গুরুত্ব দেওয়া হয় বিরোধী দলের সদস্যদেরও। অন্যদিকে বর্তমান তৃণমূল কংগ্রেস পরিচালিত এই পঞ্চায়েতের স্বচ্ছতা সম্পর্কে তার কাছে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, স্বচ্ছতার নিরিখে এই গ্রাম পঞ্চায়েতের বর্তমান বোর্ড ১০০/১০০ শতাংশ স্বচ্ছ। কারণ আমরা সমস্ত কাজের তথ্য সকলের কাছে প্রকাশ করি।

পাশাপাশি সমগ্ৰ পঞ্চায়েত এলাকার নিরাপত্তার প্রশ্নে তিনি বলেন, রঘুদেবপুর এলাকার নিরাপত্তা ১০০ শতাংশ সুনিশ্চিত রয়েছে। কারণ এই এলাকার দায়িত্বে থাকা রাজাপুর ও বাউড়িয়া থানার প্রশাসন সবসময় এই রঘুদেবপুর এলাকার নিরাপত্তা যাতে সুনিশ্চিত হয় সে দিকে খেয়াল রাখে। পাশাপাশি মহিলার উন্নয়ন প্রসঙ্গে তাকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, বর্তমানে রঘুদেবপুর পঞ্চায়েত এলাকায় মহিলাদের প্রায় ২৬৩ টি সেল্ফ হেল্ফ গ্রুপ রয়েছে। আর সেই গ্রূপের মাধ্যমেই বিভিন্ন ধরনের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে মহিলাদের। অন্যদিকে তিনি বলেন বর্তমানে গোটা রঘুদেবপুর এলাকায় স্বাস্থ্যসাথীর অন্তর্ভুক্ত সংখ্যা প্রায় ৫ হাজার। বাংলা আবাস যোজনার মাধ্যমে এই এলাকায় মানুষ গৃহ পেয়েছে প্রায় ৫৯৮ জন মানুষ।

অন্যদিকে উপ প্রধান জুবের আলম বলেন, রঘুদেবপুর গ্রাম পঞ্চায়েতে বর্তমানে ১৭২ জন বিধবা মহিলা ও ১০৪৯ জন বয়স্ক পুরুষ ও মিহিলা মাসিক ভাতার মাধ্যমে উপকৃত হচ্ছে। শুধু তাই নয় বর্তমানে রঘুদেবপুর পঞ্চায়েত এলাকা থেকে ৪৮৫৪ জন মা, বোনেরা রাজ্যের জনমুখী প্রকল্প লক্ষীর ভান্ডার প্রকল্পের আওতায় উপকৃত হচ্ছেন বলেও এদিন আমাদের জানান রঘুদেবপুর পঞ্চায়েতের উপ প্রধান শেখ জুবের আলম।

অন্যদিকে পঞ্চায়েত এলাকার নানা বিষয় নিয়ে আমরা কথা বলি পঞ্চায়েত এলাকার বিভিন্ন মানুষের কাছে। এদিন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহিলা বলেন, আগে পাঁচলা থেকে বাউড়িয়া যাবার রাস্তায় বেশকিছু জায়গায় মোবাইল ফোন চুরির কথা শোনা যেত। কিন্তু এখন তা কমেছে প্রশাসনের নজরের ফলে। তবে পঞ্চায়েত এলাকার বেশকিছু জায়গায় নিকাশির চরম সমস্যা রয়েছে। যার জন্য ভারী বৃষ্টিতে সমস্যায় পড়তে হয় সাধারণ মানুষকে। পাশাপাশি বেশকিছু জায়গায় রাস্তায় আলো লাগানোর প্রয়োজন আছে বলে এদিন জানান তিনি।