নিজেস্ব প্রতিবেদন, অজানা বাংলা, হাওড়া: করোনা পরিস্থিতির জের সারা দেশের পাশাপাশি এরাজ্যেও কাজ হারিয়েছে বহু মানুষ। আর তারই মাঝে রাজ্যের একাধিক স্কুল কলেজ কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে উঠেছে অতিরিক্ত ফ্রি নেবার অভিযোগ। আর তা থেকে বাদ যায়নি এরাজ্যও। গত কয়েক দিন আগে উলুবেড়িয়ার বিরশিবপুরের এক ও উলুবেড়িয়ার বানিবনে এক বালিকা বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে ওঠে ছাত্র ছাত্রীদের থেকে অতিরিক্ত ফ্রি নেবার অভিযোগ। আর এবার অতিরিক্ত ফ্রি নেবার অভিযোগ উঠলো ডোমজুরের বেগড়ি হাই স্কুলে বিরুদ্ধে।
আর সেই অতিরিক্ত ফ্রি বৃদ্ধির প্রতিবাদে সোমবার ভারতের ছাত্র ফেডারেশন (SFI) ডোমজুড়-১ নম্বর আঞ্চলিক কমিটির পক্ষ থেকে বেগড়ী হাইস্কুলে (উচ্চ মাধ্যমিক) এক স্মারকলিপি ও বিক্ষোভ দেখালো তারা। আর সেই বিক্ষোভে এদিন সামিল হয় ওই বিদ্যালয়ে পাঠরত ছাত্রদের অভিভাবকেরাও। আর এই বিষয়েই এদিন ওই বিদ্যালয়ে পাঠরত ছাত্রদের অভিভাবকদের অভিযোগ, বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ অনৈতিক ও বেআইনি ভাবে অতিরিক্ত ভর্তি ফিস আদায় করছেন ছাত্র ছাত্রদের থেকে। স্কুল কর্তৃপক্ষ ২৪০ টাকা ভর্তির রসিদ দিলেও কর্তৃপক্ষ ৬০০ টাকা করে আদায় করছে। বাকী ৩৬০ টাকার কোনো রসিদ দিচ্ছেন না বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
পাশাপাশি তারা আরও বলেন এই কোভিড পরিস্থিতিতে লকডাউনের ফলে সাধারণ মানুষের রুজি-রুটিতে যখন নুন আনতে পান্তা ফুরানোর অবস্থা। ঠিক তখন স্কুলের পঠন-পাঠন প্রায় ২ বছর বন্ধ। এদিকে স্কুল বন্ধ থাকলেও ছাত্রদের ভর্তির সময় ওই বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ৬০০ টাকাটা আদায় করা অনৈতিক ও অমানবিক। আর এরই প্রতিবাদে সোমবার ওই স্কুলের সামনে প্রতিবাদ বিক্ষোভে সামিল হয় এসএফআই নেতৃত্ব।
আর এবিষয়েই এদিন এস.এফ.আই. নেতৃত্ব জানান "সকলের জন্য শিক্ষার অধিকার আইন" অনুযায়ী। প্রথম শ্রেণি থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত কোনো ছাত্রদের কাছ থেকে কোন বিদ্যালয় ভর্তির জন্য ২৪০ টাকার বেশি ফ্রিস সংগ্রহ করতে পারে না। ২৪০ টাকার বেশি টাকা নেওয়ার মানে সেটা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। আর সে কারণে অতিরিক্ত ৩৬০ টাকা যাদের কাছ থেকে সংগ্রহ করেছেন, সেই টাকা অভিলম্বে অভিভাবকদের ফেরত দিতে হবে। এবং যে ছাত্রের অভিভাবকরা এই ২৪০ টাকাও দিতে পারবেন না "রাইট টু এডুকেশন অ্যাক্ট" অনুযায়ী বিনাব্যায়ে তাদের ভর্তি নিতে হবে বিদ্যালয়ে। পাশাপাশি এস এফ আই নেতৃত্বের অভিযোগ ছাত্রদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে যদি বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আংশিক সময়ের শিক্ষক রাখেন, তাহলে বিদ্যালয়ে ছাত্রদের টাকায় আংশিক সময়ের শিক্ষকের মাইনে ঠিক হবে। সরকারের পোষিত স্কুল তবে কি এবার বেসরকারিকরনের দিকে এগোচ্ছে? এদিন তাই নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এস এফ আই নেতৃত্ব।
পাশাপাশি তারা বলেন সরকার দুর্নীতি মুক্ত ভাবে রাজ্যে শিক্ষক নিয়োগে ব্যার্থ। আর সেই দায়ে কেন ছাত্রদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা আদায় করবে স্কুল কর্তৃপক্ষ। আর এস.এফ.আইয়ের এদিনের এই প্রতিবাদ বিক্ষোভে উপস্থিত ছিলেন এস এফ আই হাওড়া জেলা কমিটির সম্পাদক সৌরভ মন্ডল, ডোমজুড়-১ আঞ্চলিক কমিটির সম্পাদক দেবজিত মাজি সহ এস এফ আইয়ের অন্যান্য নেতা ও কর্মী সমর্থক। পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন অসংখ্য অভিভাবক গণও।
এদিকে বেগড়ী স্কুলে বিক্ষোভের খবর পেয়ে স্কুল চত্বরে এসে উপস্থিত হয় ডোমজুর থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী। পরে তাদের সহযোগিতায় এস এফ আই জেলা সম্পাদক সৌরভ মন্ডল, ডোমজুর-১ নম্বর আঞ্চলিক কমিটির সম্পাদক দেবজিৎ মাঝি ও একজন অভিভাবিকাকে নিয়ে তিনজন সদস্যের প্রতিনিধি দল বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের সাথে আলোচনায় বসে। পরে স্কুল কর্তৃপক্ষের নিকট তারা একটি স্মারকলিপি দেন বলেও জানা গেছে। এদিকে স্মারকলিপি শেষে স্কুলের সামনে ছাত্রনেতা সৌরভ মন্ডল জানান বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সম্পাদক কথা দিয়েছেন এই ভর্তি প্রক্রিয়া আপাতত চারদিন বন্ধ রাখবেন। পাশাপাশি তিনি বলেন ৬০০ টাকা সংগ্রহের বিষয়টি তাঁর একক সিদ্ধান্ত নয়। পাশাপাশি তিনি বলেন, গত কয়েক দিনের মধ্যেই বিদ্যালয় পরিচালন সমিতির বৈঠক ডেকে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। পাশাপাশি আগামী বৃহস্পতিবার ছাত্র নেতৃত্ব ও অভিভাবকদের জানিয়ে দেওয়া হবে বৈঠকের সেই সিদ্ধান্ত।
অন্যদিকে ওই একই ইস্যুতে এদিন হাওড়ার পাঁতিহাল দামোদর ইনস্টিটিউশনেও বিক্ষোভ দেখায় এসএফআই নেতৃত্ব। আর সেই বিক্ষোভে সামিল হয় অভিভাকেরাও।