BREAKING

Thursday, 6 January 2022

ঘুরে দেখা মায়াপুর দর্শন


নিজেস্ব প্রতিবেদন, অজানা বাংলা: করোনা মোকাবিলায় দেশ জুড়ে চলছে বিধি নিষেধ। আর সেই বিধি নিষেধের জেরে বন্ধ দেশের অধিকাংশ পর্যটন কেন্দ্র। আর রাজ্যে বিধি নিষেধের কিছু দিন আগে আমরা গিয়েছিলাম নদীয়ার মায়াপুরের ইস্কনের। এদিকে এই নদীয়া জেলার উপর দিয়ে বয়ে চলা ভাগীরথী নদীর পশ্চিম পাড়ে অবস্থিত শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর জন্মভূমি নবদ্বীপ যা নদীয়া তথা পশ্চিমবঙ্গের মানুষের কাছে এখন একটা অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র। এদিকে জেলার উপর দিয়ে বয়ে চলা ভাগীরথী ও জলঙ্গী নদীর সংযোগ স্থলে অবস্থিত এই জেলার অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র মায়াপুর। মূলত শ্রী চৈতন্য দেব ও ইসকন চন্দ্রোদয় মন্দিরের জন্য বিখ্যাত এই দুই স্থান। শ্রী চৈতন্য দেবের ভক্তদের কাছে এই স্থানটি একটি উল্লেখযোগ্য গুরুত্বপূর্ণ জায়গা। তবে বর্তমানে এখানে বহু পর্যটক আসেন মায়াপুর ইস্কনের এই চন্দ্রোদয় মন্দির দর্শন করতে।
■এবার আসুন কিভাবে যাবেন আপনি মায়াপুরে■

● চাইলে আপনি সেখানে ট্রেনে করেও যেতে পারেন●

সেক্ষেত্রে আপনাকে হাওড়া বা শিয়ালদহ থেকে ধরতে হবে কাটোয়া লোকাল। আর তার পর আপনাকে নামতে হবে বিষ্ণুপ্রিয়া হল্ট স্টেশনে। আর বিষ্ণুপ্রিয়া হল্ট স্টেশনে নেমে সেখান থেকে একটা টোটো নিয়ে চলে যান গঙ্গার ঘাটে। সেক্ষেত্রে ভাড়া পড়বে জন প্রতি ১০ টাকা। আর তার পর নৌকায় করে চলে আসুন মায়াপুরে। সে ক্ষেত্রে আপনি লঞ্চ ও নৌকা দুই পেয়ে যাবেন। সেক্ষেত্রে নৌকায় নৌকায় আপনার ভাড়া পড়বে জন প্রতি ২ টাকা ও লঞ্চে ৭ টাকা। মায়াপুরের হুলোর ঘাটে নেমে টোটো অথবা পায়ে হেঁটে পৌঁছে যাবেন মন্দিরে। সেক্ষেত্রে হুলোর ঘাট থেকে আপনার মায়াপুর মন্দির যেতে আপনার সময় লাগবে মাত্র ১০ থেকে ১৫ মিনিট।
● তা ছাড়া চাইলে আপনি সড়ক পথেও যেতে পারেন মায়াপুর ●

সেক্ষেত্রে আপনাকে আপনি যদি কলকাতা থেকে আসতে চান সেক্ষেত্রে আপনি পেয়ে যাবেন সরকারি, বেসরকারি প্রচুর বাস। যা আপনি সরাসরি পেয়ে যাবেন কলকাতা থেকে মায়াপুর আসার জন্য। এছাড়া প্রাইভেট বাসে করে আপনি চলে আসুন কৃষ্ণনগর শহরে। কৃষ্ণনগর শহর ঘুরে দেখে চলে যান মায়াপুরে।  

পাশাপাশি আপনি যদি কলকাতা থেকে প্রাইভেট গাড়ি করে মায়াপুর আসতে চান সেক্ষেত্রে আপনি ধর্মতলা, সাত্রাগাছি হয়ে দুর্গাপুর এক্সপ্রেস ওয়ে ধরে ডানকুনি, সিঙ্গুর হয়ে প্রবেশ করতে পারেন মায়াপুরে।
■ মায়াপুরে ঘুরতে গিয়ে আপনি কোথায় খাবেন ■

মায়াপুর মন্দির দর্শন করতে গেছেন অথচ মায়াপুর ইস্কনের প্রসাদ না খেয়ে বাইরে থেকে খাবার খাওয়ার কোনো অর্থই নেই। আর তাই মন্দিরের মধ্যেই গ্রহণ করতে পারেন প্রসাদ। তাও অত্যান্ত কম খরচে। সেক্ষেত্রে দুপুর ও রাত্রে খাবারের ব্যাবস্থা আছে ইস্কনের মধ্যেই।  দুপুরে খাবার জন্য এখানে গীতা ভবন, গদা ভবন , নামহট্ট ভবনের মধ্যে থেকে খাবারের কুপন পেয়ে যাবেন।  দুপুরের খাবার ৫০ থেকে ৭০ টাকা। আর রাত্রের খাবারের জন্য কুপনের মূল্য ৪০ থেকে ৫০ টাকার মধ্যে। তবে মনে রাখবেন রাতের খাবারের জন্য কুপন নিতে হলে তা সন্ধ্যার আগে সংগ্রহ করতে হবে। আর তার পর রাত ৮ টার সময় খাবার পরিবেশন করা হবে।
খাবারের মেনু : খাবারের মেনু ইস্কনের সমস্ত ভবন গুলিতে মূলত একই থাকে। তবে আজ আমরা আপনাদের সামনে রাখলাম নামহট্ট ভবনের তৈরি খাবারের তালিকা - যেখানে ছিল ভাত, শাক / ঘন্ট , সবজি, ডাল , মূল সবজি , চাটনি , মিষ্টি, পরমান্ন বা পায়েস। আবার রাতের খাবারে ভাতের সাথে রুটি ও পরিবেশন করা হয়।
■ মায়াপুরে গিয়ে আপনি কোথায় থাকবেন ■

মায়াপুর ইস্কনে বেড়াতে গিয়ে আপনি চাইলে থাকতে পারেন ইস্কনের ভিতরে থাকা গদা, শঙ্খ, পদ্ম ভবনে। সেক্ষেত্রে বুক করার জন্য আপনাকে যেতে হবে সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইটে। পাশাপাশি চাইলে আপনি মায়াপুর ইস্কনের বাইরেও থাকতেও পারেন। সেক্ষেত্রে রয়েছে প্রচুর হোটেল। মোটা মুটি ৪০০ টাকা থেকে ১০০০ টাকার মধ্য ঘর পেয়ে যাবেন আপনারা।

■ এবার আসা যাক মায়াপুর ভ্রমণে গিয়ে আপনি কি কি দেখবেন ■

মায়াপুর ভ্রমণে গিয়ে আপনি প্রথমেই প্রবেশ করুন ইস্কনের প্রবেশের মূল দ্বারে। সেখানে প্রবেশ করেই বাম দিকে তাকালেই দেখতে পাবেন ভজন কুঠির। যেখানে বিরামহীন ভাবে চলছে নাম কীর্তন। আর এই ভজন কুটিরকে কোন কোন পর্যটক নাম কীর্তনের মন্দির বলেও বলেন। এই ভজন কুটিরটি একটি পুরানো মন্দির ও খড়ের ছাওনি দ্বারা নির্মিত। আর এই ভজন কুঠিরের বাম পাশ দিয়ে সোজা চলে যান গেলেই একে একে দেখতে পাবেন শঙ্খ, চক্র, গদা, পদ্ম, ভবন গুলি।
পাশাপাশি ঘুরে দেখতে পারেন সমাধি মন্দিরটিও। এটি ইস্কনের মূল প্রবেশ দ্বারের ডান দিকে তাকালেই দেখতে পাবেন। তবে মনে রাখবেন সমাধি মন্দিরের ভেতরে ছবি তোলা সম্পূর্ণ ভাবে নিষিদ্ধ। পাশাপাশি মোবাইল নিয়ে প্রবেশ করতে পারবেনা এই মন্দিরে। পাশাপাশি দর্শনার্থীদের জন্য বলে রাখি এই সমাধি মন্দিরটি সকাল ৭ টা ৩০ মিনিট থেকে দুপুর ১ টা পর্যন্ত ও বিকাল ৩ টে ৩০ মিনিট  থেকে রাত ৮ টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত খোলা থাকে। আর এই সমাধি মন্দিরের ভেতরই অবস্থান করছে শ্রী শ্রী প্রভুপাদ পুষ্পা প্রভুর স্বর্ণ মূর্তি। যাতে তিনি একটি স্বর্ণ সিংহাসনের মধ্যে অধিষ্ঠান করছে। আর এই মন্দিরের দোতলাতেই রয়েছে শ্রী শ্রী প্রভুপাদের নিজের ঘর ও তার ব্যবহার্য বেশকিছু জিনিস পত্র। পাশাপাশি রয়েছে ওনার জীবনের এক প্রদর্শনী তথ্য।
পাশাপাশি এই মায়াপুর ইস্কন প্রাঙ্গণে আপনি দেখে নিতে পারেন ইস্কনের গোশালাটিও। আর ইস্কনের এই গোসালায় প্রায় ৩০০ প্রজাতির গরু ও বলদ আছে। পাশাপাশি এই গোসালায় এলে আপনি অবশ্যই খেয়ে দেখতে পারেন এখানকার গোসালার গরুর দুধের তৈরী ঘি, দই, লস্যি ও নানা ধরনের মিষ্টি। যা মূলত বিক্রি হয় ওই গোসালা প্রাঙ্গনেই। আর এখানকার বেশ কিছু বলদ যাদের দিয়ে সন্ধ্যা বেলায় মায়াপুর ভ্রমণ করানো হয়।
পাশাপাশি ইস্কন থেকে কিছুটা দূরে এই মায়াপুরের মধ্যেই অবস্থিত শ্যামকুন্ড ও রাধা কুন্ড অবস্থিত। পাশাপাশি চাইলে আপনি সময় করে ঘুরে আসতে পারেন ওই জায়গাটিও। এই দুই পুকুরে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে বড় বড় মাছ। চাইলে আপনি তাদের খাবার দিতে পারেন। দেখতে পাবেন খাবার পেয়ে মাছেদের সেই খেলা। পাশাপাশি রয়েছে ৫০০ বছরের পুরোনো একটি কনক চাপা ফুলের গাছও। যা মায়াপুর ও নবদ্বীপের অন্যতম আকর্ষণ। পাশাপাশি অবশ্যই দেখে নিতে পারেন মায়াপুরের অন্যতম আকর্ষণ ভাগীরথী ও জলঙ্গি নদীর মোহনাটি। জলঙ্গি নদী এখানে মিশেষে ভাগিরথীতে।