প্রদীপ কুমার সাঁতরা, অজানা বাংলা: চলছিল ভারত ও দক্ষিণ আফ্রিকার মধ্যে টেস্ট সিরিজ। আর পঞ্চম তথা শেষ দিনের খেলা শেষ হওয়ার আগে ভারতের সেঞ্চুরিয়ান টেস্ট জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল মাত্র ৬ টি উইকেট। কিন্তু আবহাওয়া ও বৃষ্টি বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারতো ভারতের সেই জয়ে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তেমন কিছু বাধা সৃষ্টি করতে পারেনি বৃষ্টি। আর তার জেরেই দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে ভারত তাদের বিজয় পতাকা ওরালো সেঞ্চুরিয়ানে।
এদিকে পঞ্চম দিনে ভারতের বিরুদ্ধে ৯৪ রান নিয়ে খেলা শুরু করে দক্ষিণ আফ্রিকা। কিন্তু যখন দক্ষিণ আফ্রিকার রান ১৩০ হয়, তখন তাদের ইনিংসের পঞ্চম উইকেটটির পতন ঘটে। আর এদিনের দিনের প্রথম উইকেটটি নেন জাসপ্রিত বুমরাহ। আর দক্ষিণ আফ্রিকার ক্যাপ্টেন ডিন এলগারকে ৭৭ রানের মাথায় এলবিডব্লিউ করে জাসপ্রিত বুমরাহ। আর এরপর থেকেই দক্ষিণ আফ্রিকার একের পর এক উইকেটের পতন ঘটতে দেখা যায়। এরপর ২১ রানের মাথায় দক্ষিণ আফ্রিকার ষষ্ঠ উইকেট হিসাবে আউট হন দক্ষিণ আফ্রিকার উইকেট কিপার ব্যাটসম্যান কুইন্টন ডি কক। মোহাম্মদ সিরাজ, ডি কক - কে তার নিজের শিকার বানান। এদিকে ডুবতে বসা দক্ষিণ আফ্রিকার ইনিংসের একদিক ধরে রেখেছিল টেম্বা বাভুমা। কিন্তু অন্যদিকে উইকেট ধরে রাখতে ব্যার্থ হয় দক্ষিণ আফ্রিকা। ফলে পতন ঘটা অব্যাহত ছিল। এদিকে এদিন ভারতীয় বোলারদের সামনে দক্ষিণ আফ্রিকার কোনো ব্যাটসম্যানই টিকতে পারেনি। দক্ষিণ আফ্রিকার দ্বিতীয় ইনিংসের শেষে রান গিয়ে পৌছায় ১৯১ রান। এদিকে এদিন ১৯১ রানেই অলআউট হয়ে যায় দক্ষিণ আফ্রিকা দল। আর সেই সঙ্গে চলতি বছরের শেষ টেস্ট ম্যাচে ঐতিহাসিক জয় অর্জন করলো ভারত। এদিকে ভারত সেঞ্চুরিয়ান টেস্ট ম্যাচটি ১১৩ রানে জয় করে।
এদিকে দ্বিতীয় ইনিংসে জাসপ্রিত বুমরাহ ও মোহাম্মদ সামি দুজনে আজ ৩ টি উইকেট নিয়েছে। মোহাম্মদ সিরাজ ও রবীচন্দ্রন অশ্বিন দুজনে নিয়েছে ২ টি করে উইকেট। পঞ্চম দিনে ভারতীয় বোলাররা মাত্র ৯৭ রান দিয়ে অবশিষ্ট ৬ টি উইকেট তুলে নেয়। প্রথম ইনিংসে দুর্দান্ত শতরানের জন্য ভারতীয় ওপেনার কে এল রাহুল - এদিনের এই ম্যাচের সেরা নির্বাচিত করা হয়। প্রসঙ্গত এই দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে ভারত তিনটি টেস্ট ম্যাচ খেলবে। প্রথম টেস্ট ম্যাচে জিতে ভারত এই সিরিজে ১-০ তে এগিয়ে গেলো। এখন দেখার বাকি দুটি টেস্টের মধ্যে একটি টেস্টে জয় পেলেই ভারত প্রথম বারের জন্য দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে টেস্ট সিরিজ জিতবে।