BREAKING

Monday, 3 January 2022

অঞ্জনা নদী বাঁচাতে অভিনব উদ্যোগ গ্রহণ নদীয়ার কৃষ্ণনগরের পরিবেশ কর্মী সংগঠনের


রমিত সরকার, অজানা বাংলা, নদীয়া: অঞ্জনা নদী বাঁচাতে এবার অভিনব উদ্যোগ গ্রহণ করলো নদীয়া জেলার কৃষ্ণনগরের পরিবেশ কর্মীরা। রবিবার সকালে কৃষ্ণনগরের কালেক্টরি মোড় থেকে ওই পরিবেশ কর্মী সংগঠনের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয় এক সাইকেল যাত্রা। আর এদিন কালেক্টর মোড় থেকে শুরু হয়ে প্রায় ১৮ কিলোমিটার দোগাছী গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত খাল বোয়ালিয়া হয়ে কৃষ্ণনগরের পোস্ট অফিস মোড়ে গিয়ে শেষ হয়।আর এরই মধ্যে বেজিখালী ও শক্তিনগর পাঁচ মাথা মোড়ে নদীকে বাঁচানোর লক্ষে চলে সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রচারাভিযান।
প্রসঙ্গত এই নদীকে একদা মায়ের মতো করে লালন পালন করে এসেছে নদীয়ার বিস্তীর্ণ এলাকা সাধারণ মানুষ। আর সেই নদী পথেই নদীয়া থেকে বাংলার যেকোনো প্রান্তে  বাণিজ্য নিয়ে ভেসে গেছে বাণিজ্যতরী।
শুধু তাই নয় বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কবিতাতেও স্থান পেয়েছে এই অঞ্জনা নদী। কবি তার কবিতায় লিখেছেন “অঞ্জনা নদী তীরে চন্দনী গাঁয়ে, পোড়ো মন্দির খানা গঞ্জের বাঁয়ে”। কোন কোন সূত্র থেকে জানা যায় যে, বহিরাগত শত্রুরা যাতে সহজে প্রবেশ করতে না পারে সেই জন্যই নদীর মুখ বন্ধ করে দেওয়া হয়। আর তখন থেকেই  অঞ্জনা নদী প্রথম গতিহীন হওয়া শুরু করে একটু একটু করে। আবার কেউ বা বলেন সত্তরের দশকে রাজা কৃষ্ণচন্দ্র রায় কৃষ্ণনগর শহরকে বাঁচানোর জন্য জলঙ্গি নদীর পাশে বাঁধ দিয়ে দেয়। আর তার ফলেই জলঙ্গি নদী থেকে আলাদা হয়ে পড়ে অঞ্জনা নদী। আর সেই সময় থেকেই গতি হারানো শুরু হয় অঞ্জনা নদীর।
কিন্তু বর্তমান সময়ে দাঁড়িয়ে সেই অঞ্জনা নদী যেন মরতে বসেছে। হারিয়েছে তার স্বতঃস্ফূর্ত গতি প্রকৃতিও। নদীকে কেন্দ্র করে কোথাও গজিয়ে উঠেছে বেআইনি নির্মাণ, কোথাও বা মাছ ধরার জলাশয়, কোথাও আবার দোকানপাট, কোথাও আবার বাঁধ দিয়ে চাষবাসের ফলে ক্রমেই সংকীর্ণ হয়ে যাচ্ছে অঞ্জনা নদী। ফলে ক্রমশই সৌন্দর্য হারিয়ে ফেলছে এই নদী। এদিকে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির ভিড়েও হয়না নদীর সংস্কার। আর এই নদী এখন কোথাও খাল, কোথাও বা ছোটো নালায় পরিণত হয়েছে। আর তার বিরুদ্ধেই এদিনের এই সাইকেল যাত্রা। যা শুরু হয় বেলা ১টা নাগাদ পৌঁছায় কৃষ্ণনগর পোস্ট অফিস মোড়ে।
আর এদিন ওই সংগঠনের নেতৃত্বরা নদী বাঁচাতে সাধারণ মানুষের মধ্যে তাদের বক্তব্য পেশ করেন। সংগঠনের অন্যতম কৌশিক সরকার জানান,  “কৃষ্ণনগরের অঞ্জনা নদী আজ অবহেলিত এবং মৃতপ্রায় বলা যায়। অঞ্জনা নদী আমাদের কাছে একটি আবেগ। ধীরে ধীরে কিছু অসাধু ব্যক্তির লোভের ফলে আজ এই নদী তার স্রোত হারিয়ে ফেলেছে। কোথাও বড় বড় অট্টালিকা তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি তিনি আরও বলেন, প্রশাসনের কাছে আমরা অনুরোধ রাখছি অঞ্জনা নদীকে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনার জন্য যা করা প্রয়োজন আপনারা করুন”।


এদিকে এই সাইকেল যাত্রায় নদীয়ার পাশাপাশি রাজ্যের বিভিন্ন পরিবেশ সংগঠনের সদস্যরা যোগদান করেন বলে জানা গেছে।