নিজেস্ব প্রতিবেদন, অজানা বাংলা: সুন্দরবন এই নামটি বলতেই যা বোঝায় তা হল সুন্দরের বন। তবে এই বনাঞ্চলের নাম করণের পিছনে শোনা যায় সুন্দরী গাছ থেকেই হয়তো এই গাছের নামকরণ হয়েছে। সে যাই হোক এই জাতীয় উদ্যান কিন্তু ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে বিস্তিত। যা মূলত ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের দক্ষিণ ২৪ পরগণা (South 24 Pargana in West Bengal) অবস্থিত। যার বেশকিছু অংশ ভারতের প্রতিবেশী দেশ বাংলাদেশের মধ্যেও পরে। পৃথিবীর বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ অরণ্য এটি। আর 1878 সাল নাগাদ সুন্দরবনের এই অংশটি ভারতের করার কাজ শুরু হয়। 1973 সালে এটি ব্যাঘ্র প্রকল্প রূপে ঘোষিত হয়। পরবর্তী কালে 1977 সালে এটি অভয়ারণ্য রূপে মর্যাদা লাভ করে। পরবর্তী কালে 1984 সালে তা জাতীয় উদ্যান এবং 1997 সালে এই সুন্দরবনকে বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান রূপে ঘোষণা করেন। মূলত 10000 বর্গকিলোমিটার অঞ্চল জুড়ে অবস্থান এই বনের। যা ব্রম্ভপুত্র ও গঙ্গা নদীর অববাহিকার মধ্যে অবস্থান করে। এদিকে বিভিন্ন তথ্য থেকে জানা যায় ভারতের মধ্যে এই বনের যে অংশটি রয়েছে তা মূলত 102 টি দ্বীপ নিয়ে গড়ে উঠেছে।
একাধিক দ্বীপ নিয়ে গড়ে উঠেছে এই সুন্দরবন। যার অধিকাংশ দ্বীপই জোয়ারের সময় নোনা জলে ভোরে থাকে। আর এই সুন্দরবনের নিকটবর্তী অঞ্চলের মধ্যে রয়েছে নামখানা, সন্দেশখালী, গোসাবা, ক্যানিং, ঝরখালীর মতো গ্রাম। যার অধিকাংশ গ্রামই প্রায় নদী নালা দিয়ে ঘেরা। সুন্দরবন ও তৎসংলগ্ন এলাকার নদী গুলি নোনা জলের নদী হিসাবেই পিরিচিত।
আর সারা পৃথিবীর মানুষের কাছে বাদাবন ছাড়াও এই বনটি যে কারণে বিখ্যাত তা হলো রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার। পাশাপাশি এই বনাঞ্চলে প্রচুর পরিমাণে পাখি, চিত্রা হরিণ, বানর, নোনা জলের কুমির, ঘড়িয়াল, কচ্ছপ সহ একাধিক প্রাণী দেখতে পাওয়া যায়। পাশাপাশি প্রচুর পরিমাণে সামুদ্রিক মাছ দেখতে পাওয়া যায় এখানে।
কিভাবে যাবেন এই সুন্দরবন:-
সুন্দরবন যেতে গেলে আপনাকে প্রথমেই যেতে হবে গদখালী বা ঝড়খালীতে সেখান থেকে লঞ্চে করে চলে যান সুন্দরবন। তবে যদি আপনি ট্রেনে করে সুন্দরবন যেতে চান সেক্ষেত্রে আপনাকে শিয়ালদহ থেকে ট্রেনে করে চলে আসুন ক্যানিং। আর ক্যানিং স্টেশনে নেমে টোটো বা ছোট গাড়ি করে চলে যান গদখালী বা ঝড়খালি। পাশাপাশি আপনি যদি সড়ক পথে আসতে চান সেক্ষেত্রে আপনাকে ধর্মতলা থেকে বাসে করে চলে যান ক্যানিং। আর তার পর সেখান থেকে চলে যান গদখালি বা ঝরখালী। আর সেখান থেকে লঞ্চে সুন্দরবন।
কোথায় থাকবেন:- সুন্দরবনে থাকার জন্য আপনি চাইলে রাত্রীযাপন করতে পারেন লঞ্চে। পাশাপাশি পাখিরালয় সংলগ্ন এলাকায় আপনি পেয়ে যাবেন প্রচুর হোটেল।
কখন যাবেন:- সুন্দরবন যাওয়ার সেরা সময় শীতকাল। তবে বর্ষা কাল বাদ দিয়ে অন্য সময় যেতেও পারেন।
দেখার জিনিস:- বাঘ, হরিণ, কুমির, নানান রকম পাখি। পাশাপাশি সজনেখালি ওয়াচ টাওয়ার, সুধন্যখালী ওয়াচ টাওয়ার, গজখালি, কুমির পুকুর, কচ্ছপ পুকুর।
বিশেষ সতর্কতা:-
● সুন্দরবন বেড়াতে গিয়ে কখনোই একা একা ঘুরবেন না।
● নদীতে নামবেন না বা লঞ্চ থেকে নদীর জলে হাত বা পা দেবেন না।
● লঞ্চে নাচ বা হৈ হুল্লোড় করবেন না।
● স্থানীয় ও গ্রাইডদের পরামর্শ মেনে চলুন।