BREAKING

Sunday, 12 December 2021

এক দিনের ছুটিতে বেরিয়ে আসুন পশ্চিম মেদিনীপুরের "গণগণি" তে


নিজেস্ব প্রতিবেদন, অজানা বাংলা: রাজ্যে চলছে শীতের আমেজ। আর শীতের সেই সোনালী রোদকে গায়ে মেখে একদিনের ছুটিতে বাড়ির সকলকে সঙ্গে নিয়ে বেরিয়ে আসুন পশ্চিম মেদিনীপুরের গোড়বেতায় অবস্থিত "দ্যা গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন অফ বেঙ্গল" গণগণিতে। কিন্তু কি ভাবে যাবেন সেখানে, কি দেখবেন, কোথায় খাবেন, রইলো তার বিস্তারিত।

আরও পড়ুন


কিন্তু এই গণগণিতে কি আছে ? 

গণগণি যা কলকাতা থেকে মাত্র ১৭৭ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত পশ্চিম মেদিনীপুরে গড়বেতায় শিলাবতী নদী যার স্থানীয় নাম শিলাইয়ের ক্ষয়প্রাপ্ত অববাহিকায় গড়ে উঠেছে এই গণগণি। শুধু ক্যানিয়ন বললেও ভুল হবে সূর্যের আলোতে এর উজ্বল রাঙা রূপ আপনাকে মুগ্ধ করবেই। আর পাথুরে পথ দিয়ে একে বেঁকে নিমে যান নিচে। তবে বর্তমানে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এটিকে জেলার পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে সাজিয়ে তোলা হয়েছে। জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে নিচে নামার জন্য তৈরি করা হয়েছে সিঁড়িও। আর এই পথ দিয়ে নেমে সোজা গেলেই মিলবে শিলাবতী নদী। যার হাঁটু সমান স্নিদ্ধ জল, ও ওই নদীকে কেন্দ্র করে স্থানীয় মানুষের জীবন জীবকার চিত্র দেখা মাত্রই তা ক্যামেরা বন্দি করতে ইচ্ছে করবে আপনার।
কথিত আছে পাণ্ডবরা তাদের অজ্ঞাতবাসের সময় এসেছিলেন এই স্থানে। একদিন নদীর পাড়ে এক ব্রাম্ভনকে কাঁদতে দেখে যুধিষ্ঠির। তিনি তখন ওই ব্রাম্ভনকে তার কন্যার কারণ জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন নদীর ওপারে এক বক রাক্ষস আছে। আর সে প্রতিদিন গ্রামের একজন করে মানুষকে আহার করছে। আর আজ তার পালা। আর এই কথা শোনা মাত্রই যুধিষ্ঠির ওই রাক্ষসকে বধ করবার জন্য ভিমকে পাঠায় ওই স্থানে। আর সেই সময় ভীম ও রাক্ষসের মধ্যে যে যুদ্ধ হয় সেই যুদ্ধের ফলেই নাকি সৃষ্টি হয় এই "গণগণির"।
অন্যদিকে চৌয়ার বিদ্রোহের সময় অচল সিংঘ তার দলবল নিয়ে এই স্থানের শালবনে আত্মগোপন করে। আর এখন থেকেই তিনি ইংরেজদের বিরুদ্ধে গড়ে তোলেন গেরিলা যুদ্ধ। ফলে ঐতিহাসিক দিক থেকে এই স্থানটি গুরুত্ব অপরিসীম। 

আর এই গণগণির মধ্যেই দেখতে পাবেন শাল, পিয়াল, কাজুর জঙ্গল। পাশাপাশি দেখতে পাবেন ওড়িশা স্থাপত্যে তৈরি সর্বমঙ্গলয়া কালি মন্দির। কিছুটা গিয়ে দেখে নিতে পারেন গড়বেতায় অবস্থিত রামকৃষ্ণ মিশনের শাখাটি।
তবে গণগণিতে গিয়ে ছবি তোলার নেশায় সাবধানে ছবি তোলাই ভালো। কারণ জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে রয়েছে একাধিক সতর্কবার্তাও

তবে যাবেন কি ভাবে ?

দক্ষিণ পূর্ব রেলের সাঁতরাগাছি স্টেশন থেকে সকালে ছাড়ছে রূপসী বাংলা এক্সপ্রেসে করে ঘন্টা তিনেক পথ গড়বেতায় নামুন। সেখান থেকে টোটো বা অটো করে মাত্র ১০ মিনিটের পথ গণগণি। অথবা হাওড়া থেকে মেদিনীপুর লোকাল করে মেদিনীপুর স্টেশনে নেমে বাসে করে চলে যান গড়বেতা। আর গড়বেতায় নেমে একটি টোটো নিয়ে চলে যান গণগণি। সেক্ষেত্রে সময় পড়বে মাত্র ১০ থেকে ১৫ মিনিট।
অথবা কলকাতা থেকে আপনারা সড়ক পথে যেতে চাইলে। ১৬ নম্বর জাতীয় সড়ক ধরে কোলাঘাট, পাসকুড়া, খড়গপুর, মেদিনীপুর, চন্দ্রোকনা রোড পেরিয়ে চলে যান গোড়বেতায়। সেখান থেকে কিছুটা গিয়ে বাম দিকে ১০ মিনিট গেলেই মিলবে গণগণি।

কোথায় থাকবেন

গণগনিতে গিয়ে যদি আপনি থাকতে চান সে ক্ষেত্রে ছোট বড় বেশ কয়েকটি হোটেল রয়েছে। রয়েছে ধর্মশালাও। চাইলে আপনি ওখান থেকে ঘুরে আসতে পারেন বাঁকুড়া বা বিষ্ণুপুরেও।

কোথায় খাবেন

গণগণিতে খাওয়ার তেমন ব্যাবস্থা না থাকলেও। আপনি যে হোটেলে থাকতে চান চাইলে সেখানে আপনি খেয়ে নিতে পারেন। অথবা সংলগ্ন গড়বেতায় পেয়ে যাবেন খাবার জন্য একাধিক ছোট বড় খাবার রেস্টুরেন্ট পেয়ে যাবেন।

তাই আর দেরি না করে এই শীতের মরসুমে ঘুরে আসতেই পারেন গণগণিতে।