নিজেস্ব প্রতিবেদন, আসানসোল: নিখোঁজ হওয়ার সাতদিনের মাথায় অবশেষে খোঁজ মিললো। বালির নিশ্চিন্দার সাপুই পাড়ার নিখোঁজ দুই গৃহবধূ রিয়া কর্মকার, অনন্যা কর্মকার ও তাদের সাত বছরের ছেলে আয়ুষের। এদিকে সূত্রের খবর বাড়ি থেকে শীতের পোশাক কেনার নাম করে এরা দুই রাজমিস্ত্রির সঙ্গে পালিয়ে যায়। এদিকে সূত্রের খবর এরা মুর্শিদাবাদে হয়ে মুম্বাই গিয়েছিল বলে খবর। কিন্তু টাকা পয়সার টান পড়ায় তারা ফিরছিল রাজ্যে। কিন্তু মাঝপথেই আসানসোল স্টেশনে পুলিশ তাদের আটক করে বলে সূত্রের খবর।
প্রসঙ্গত, গত ১৫ ই ডিসেম্বর হাওড়ার বালির নিশ্চিন্দা সাপুই পাড়ার বাসিন্দা। কর্মকার পরিবারের দুই গৃহবধূ রিয়া কর্মকার ও অনন্যা কর্মকার তাদের ছোট ছেলে আয়ুসকে নিয়ে হুগলির শ্রীরামপুরে যায় শীতের পোশাক কিনতে। কিন্তু তার পর দীর্ঘ সময় কেটে যাওয়ার পরেও তারা বাড়ি না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা খোঁজ খবর শুরু হয় অন্যান্য আত্মীয়দের বাড়িতে। কিন্তু সেখানেও তাদের কোন সন্ধান না মেলায় পড়ে পরিবারের পক্ষ থেকে দ্বারস্থ হয় নিশ্চিন্দা থানায়। কর্মকার পরিবারের পক্ষ থেকে নিশ্চিন্দা থানায় দায়েক করা হয় মিসিং ডায়েরিও।
আর এর পরেই ওই দুই গৃহবধূর সন্ধানে তদন্তে নামে হাওড়ার নিশ্চিন্দা থানার পুলিশ। পুলিশ প্রাথমিক ভাবে মোবাইলের সূত্র ধরে খোঁজ চালায় ওই দুই গৃহবধূর। কিন্তু তাদের মোবাইল দীর্ঘ সময় সুইচ অফ থাকে। পরে পুলিশের পক্ষ থেকে খতিয়ে দেখা হয় ওই দুই গৃহবধূর মোবাইলের কল লিস্ট। আর সেই সময়েই অনন্যার কললিস্ট ঘেঁটে এক অচেনা নাম্বারের সন্ধান পায় পুলিশ। আর সেই নাম্বারের সূত্র ধরেই পুলিশ জানতে পারে ওই নাম্বারটি সুভাষ নামের এক ব্যক্তির। আর তার সঙ্গেই নিখোঁজের দিন কথা হয় অনন্যার।
আর এর পরেই পুলিশ তদন্ত করে জানতে পারে মাস খানেক আগে কর্মকার বাড়ি সংস্কারের জন্য আসে পেশায় রাজমিস্ত্রি সুভাষ ও শেখার নামের ওই দুই যুবক। আর সেই সময়েই ওই দুই রাজমিস্ত্রির সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে ওঠে কর্মকার পরিবারের ওই দুই গৃহবধূর। আর এরই মাঝে পুলিশ তাদের খোঁজে যায় সুভাষের মুর্শিদাবাদের বাড়িতে কিন্তু সেখানে ছিলেন না সুভাষ।
এদিকে পুলিশ ওই দুই গৃহবধূ ও তাদের সন্তানকে কোথায় রাখা হয়েছে তার সন্ধান চালিয়ে যেতে থাকে। আর এরই মাঝে পুলিশ সূত্র মারফত জানতে পারে
তারা ট্রেনে করে ফিরছে আসানসোলে। আর এর পরেই বালির নিশ্চিন্দা থানার পুলিশ আসানসোল রেল পুলিশের সাহায্যে ওই শিশু সহ পলাতক দুই মহিলাকে আসানসোল স্টেশন থেকে উদ্ধার করে। এক শিশু সহ দুই মহিলাকে উদ্ধার করেছে। পাশাপাশি অভিযুক্ত ওই দুই রাজমিস্ত্রিকেও তদন্তের স্বার্থে পুলিশ আটক করেছে বলে জানা গেছে।
এদিকে ওই দুই রাজমিস্ত্রি, দুই গৃহবধূ ও তাদের সাঁত বছরের সন্তানকে হাওড়ায় আনা হচ্ছে বলে সূত্রের খবর। এদের সকলকেই আগামীকাল তোলা হতে পারে আদালতে।