নিজেস্ব প্রতিবেদন, অজানা বাংলা: সংগীত জগতের নক্ষত্র পতন। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় চলে গেলেন "গীতশ্রী" সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়। জানা গেছে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন গীতশ্রী।
১৯৬১ সালে "সপ্তপদী" সিনেমায় গান গায় সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়। পরে ১৯৭০ সালে "জয়জয়ন্তী" চলচ্চিত্রে গান গায় "গীতশ্রী"। আর এই ছবিতে গানের জন্য ১৯৭১ সালে ন্যাশনাল আওয়ার্ড পান তিনি। পরে একের পর এক বাংলা সিনেমায় গান গান তিনি। আর তার বাংলা গানের মধ্যে দিয়ে তিনি স্থান করে নেন আপমোর বাঙালীর মনের মণি কোঠায়।
২০১১ সালে 'বঙ্গবিভূষণ' পুরস্কারে ভূষিত হন "গীতশ্রী" সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়। ২০১২ সালে "সংগীত মহা সম্মানে" ভূষিত হন তিনি। পাশাপাশি তিনি পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সঙ্গীত একাডেমির সভাপতিও ছিলেন।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়ের প্রয়াণের খবর ছড়িয়ে পড়তেই শোকস্তব্ধ গোটা রাজ্য, তথা দেশের সংগীত জগৎ। গীতশ্রীর প্রয়াণে শোক জ্ঞাপন করেন বিশিষ্ট জনেরা। শোক জ্ঞাপন করেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
"গীতশ্রী" সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়ের প্রয়াণে এক শোক বার্তায় রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন,
কিংবদন্তী প্রতিম সঙ্গীত শিল্পী, অমর সুরসাধিকা সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়ের প্রয়াণে আমি গভীরতম শোক প্রকাশ করছি। তিনি আজ কলকাতায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। বয়স হয়েছিল ৯০ বছর।
দশকের পর দশক ধরে তিনি তাঁর অবিস্মরণীয় কণ্ঠমাধুর্যের জাদুতে শ্রোতাদের মুগ্ধ করে রেখেছিলেন। তাঁর গাওয়া অসংখ্য গান সঙ্গীতপ্রেমীদের পছন্দের তালিকায় আজও শীর্ষে রয়েছে।
পশ্চিমবঙ্গ সরকার তাঁকে ২০১১ সালে 'বঙ্গবিভূষণ', ২০১২ সালে 'সঙ্গীত মহাসম্মান' ও ২০১৫ সালে 'ওস্তাদ বড়ে গোলাম আলি বিশেষ সঙ্গীতসম্মান' প্রদান করে। এছাড়া তিনি ভারত নির্মাণ অ্যাওয়ার্ড, ন্যাশনাল ফিল্ম অ্যাওয়ার্ড, বিএফজেএ অ্যাওয়ার্ড সহ বহু সম্মানে ভূষিত হন। তিনি আমৃত্যু পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সঙ্গীত একাদেমীর সভাপতিও ছিলেন।
তাঁর মৃত্যুতে সঙ্গীত জগতের অপূরণীয় ক্ষতি হল।
স্বর্ণকণ্ঠী গীতশ্রী সন্ধ্যাদির সঙ্গে আমার দীর্ঘদিনের হৃদ্য সম্পর্ক ছিল। তাঁর মৃত্যুতে আমি আমার অগ্রজাকে হারালাম।
আমি সন্ধ্যাদির পরিবার-পরিজন ও অসংখ্য অনুরাগীকে অন্তরের অন্তঃস্থল থেকে আন্তরিক সমবেদনা জানাচ্ছি ।