অভিজিৎ ব্যানার্জী, উলুবেড়িয়া: সারা দেশের পাশাপাশি এরাজ্যেও ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে কোভিড আক্রান্তের সংখ্যা। আর সেই সময় কালে দাঁড়িয়ে রাজ্যের বিভিন্ন হাসপাতালে দেখা দিয়েছে রক্তের ঘারতি। আর প্রয়োজনীয় রক্তের অভাবে থমকে যাচ্ছে জটিল অস্ত্র প্রচার। পাশাপাশি সমস্যায় পড়ছে থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত শিশুর পরিবারেও। আর রক্তের সেই ঘারটি কিছুটা কমাতে রবিবার উদ্যোগী হলো নিখিলবঙ্গ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি উলুবেড়িয়া পূর্ব চক্রের সদস্যরা।
এদিন সকালে গ্রামীণ হাওড়ার বাউড়িয়ার এক অনুষ্ঠান ভবনে অনুষ্ঠিত হয় এক রক্তদান শিবির। মূলত নিখিলবঙ্গ প্রাথমিক শিক্ষক সংগঠনের উদ্যোগে ও কলকাতার নীলরতন সরকার মেডিকেল কলেজ ব্লাড ব্যাঙ্কের সহযোগিতায় অনুষ্ঠিত হয় এই রক্তদান শিবির। এদিন ওই সংগঠনের পতাকা উত্তোলন করে এই রক্তদান শিবিরের শুভ সূচনা করেন সংগঠনের নেতৃত্বরা। পরে সংগঠনের প্রাক্তন প্রয়াত কর্মীদের স্মৃতির উদ্যেশে চলে মাল্যদান শিবির।
প্রসঙ্গত প্রয়াত শিক্ষিকা শুক্লা প্রামানিক ও নিভা দাসের স্মৃতির উদ্দেশ্যে অনুষ্ঠিত হয় এদিনের এই রক্তদান শিবির। আর এদিনের এই রক্তদান শিবিরে উপস্থিত ছিলেন নিখিলবঙ্গ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির রাজ্য সম্পাদক মোহন দাস পন্ডিত। পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন, নিখিলবঙ্গ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির হাওড়া জেলা কমিটির সদস্য প্রদীপ দত্ত, সঞ্জয় সাহা, পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের রাজ্যের কোষাধ্যক্ষ মোহাম্মদ আলাউদ্দিন। নিখিলবঙ্গ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির উলুবেড়িয়া পূর্ব চক্রের সাধারণ সম্পাদক সৌমেন বাগ, ব্লাড ডোনার হোয়াটস অ্যাপ গ্রূপের সম্পাদক শাশ্বত পাড়ুই সহ আরো অনেকে।
প্রতি রক্ত দাতাদের হাতে চারা গাছ, শংসাপত্র তুলে দেয় নিখিলবঙ্গ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির কর্মীরা। আর এই রক্তদান শিবিরে উপস্থিত নেতৃত্বরা বলেন, রাজ্যে দীর্ঘদিন ধরেই চলছে কোভিড পরিস্থিতি। আর তার জেরেই বন্ধ রাজ্যের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলি। আর সেই সময়ে রাজ্যে যখন সমস্ত কিছুই প্রায় স্বাভাবিক। তখন সামাজিক সুরক্ষা বিধি ও কোভিড বিধি মেনে খুলতে হবে রাজ্যের সমস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলি। এদিকে এদিনের এই রক্তদান শিবির থেকে প্রায় ৫০ জন পুরুষ ও মহিলা তাদের রক্তদান করেন বলে জানা গেছে।
অন্য দিকে এই রক্ত দান শিবির থেকে ব্লাড ডোনার হোয়াটস অ্যাপ গ্রূপের সম্পাদক শাশ্বত পাড়ুই বলেন, বিশ সালে প্যাণ্ডমিক পরিস্থিতিতে যখন রক্তশূন্যতা ছিল ব্লাড ব্যাঙ্ক গুলিতে। থ্যালাসেমিয়া সহ মুমূর্ষু রোগীদের পরিবার হা-হুতাশ করছিলেন। ঠিক তখন বিভিন্ন পেশার মানুষ ও ছাত্র-যুবদের সমবেত রক্তদাতাদের নিয়ে তৈরি হয় ব্লাড ডোনার হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ। আমাদের অভিজ্ঞতা রক্তদান শিবির হলেও দালাল চক্রের রমরমা সরকারি ব্যাঙ্কগুলিতে। গরিব মানুষ দালাল চক্রের খপ্পরে পড়ে অনেকক্ষেত্রেই নিঃস্ব হন। তাই রক্তদান শিবির শুধু আয়োজন করলেই হবে না। রক্ত নিয়ে ব্যবসা যারা করে তাদের বিরুদ্ধেও একজোট হতে হবে। দালাল চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিক সরকার। রোগের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে হবে ঠিকই কিন্তু মানুষের পাশেও দাঁড়াতে হবে। মানবিক দায়বদ্ধতার যে উদাহরণ গুলি তৈরি হচ্ছে তাতে শিক্ষকরাও সামিল হচ্ছেন তার জন্য শিক্ষকদের অভিনন্দন জানাই।
অন্য দিকে এই প্রসঙ্গেই এদিন নিখিলবঙ্গ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি উলুবেড়িয়া পূর্ব চক্রের সাধারণ সম্পাদক সৌমেন বাগ বলেন, আমাদের সংগঠনের কর্মীদের স্মৃতির উদ্দেশ্যে প্রত্যেক বছরই আমরা এই রক্তদান শিবির আয়োজন করে থাকি। কারণ মানুষের পাশে থাকার জন্য। আর তাই এবছরও এই উদ্যোগ। মূলত ৫০ জন পুরুষ মহিলা এই রক্তদান শিবিরে তাদের রক্তদান করেছে বলেও জানান তিনি। পাশাপাশি তিনি বলেন কোভিড পরিস্থিতিতে সমস্ত সুরক্ষা বিধি মেনে অভিলম্বে চালু করা হোক রাজ্যের সমস্ত প্রাথমিক স্কুল, সহ অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলিকে।