নিজেস্ব প্রতিবেদন, উলুবেড়িয়া: সারা দেশের পাশাপাশি এরাজ্যেও বৃদ্ধি পেয়েছে কোভিডের সংখ্যা। আর তাই সেই পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে রাজ্যে জারি হয়েছে একাধিক বিধি নিষেধ। আর তাই এবার কোভিডের জেরে স্থগিত করে দেওয়া হলো হাওড়া জেলার অন্যতম মেলা শরৎ মেলা। প্রসঙ্গত ২১ শে জানুয়ারি থেকে ২৮ শে জানুয়ারি পর্যন্ত হাওড়ার বাগনানের দেউলটি পানিত্রাস স্কুল মাঠে অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে হাওড়া জেলার ঐতিহ্যবাহী এই মেলাটি। মূলত অমর কথা শিল্পী শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের স্মৃতি বিজড়িত ওনার বাগনানের দেউলটির সামতাবেড়িয়া গ্রামে অবস্থিত ওনার বাসভবন সংলগ্ন পানিত্রাস হাই স্কুল মাঠে অনুষ্ঠিত হয় এই মেলা। যা শরৎ মেলা ও শরৎ স্মৃতি গ্রন্থাগার যৌথ ভাবে পরিচালনা করে এই মেলা।
এদিকে শুধুমাত্র হাওড়া জেলাই নয়। জেলার পাশাপাশি রাজ্যের মানুষের কাছে জনপ্রিয় এই মেলা। এদিকে সূত্রের খবর করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ায় আপাতত স্থগিত করে দেওয়া হলো এবছরের শরৎ মেলা। উল্লেখ্য শরৎ মেলার ৫০ তম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে এবছর মেলা উদ্যোক্তাদের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছিল বিশেষ ব্যবস্থা। কিন্তু করোনার জেরে তা আপাতত স্থগিত করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
গতকাল রবিবার রবিবার এক সভা থেকে এমনি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। আর এদিনের এই সভায় উপস্থিত ছিলেন ৫০ তম শরৎ মেলা কমিটির প্রধান উপদেষ্টা তথা আমতার বিধায়ক সুকান্ত পাল, পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন শরৎ মেলা কমিটির সম্পাদক দ্বীপ নারায়ণ মাইতি, সভাপতি অসিত রঞ্জন ঘোষ, শরৎ গ্রন্থাগারের সভাপতি সুমন মুখার্জী, সহ অন্যান্য ব্যাক্তিবর্গ।
আর এপ্রসঙ্গে এদিন শরৎ মেলা কমিটির প্রধান উপদেষ্টা তথা আমতার বিধায়ক সুকান্ত পাল বলেন, আগামী ২১ থেকে ২৮ শে জানুয়ারি পর্যন্ত যে শরৎ মেলা হওয়ার কথা ছিল। সেই মেলার ছিল এবছর ৫০ তম বর্ষ। সেই উপলক্ষে মেলা কমিটির পক্ষ থেকে প্রায় চূড়ান্ত তার প্রস্তুতি। কিন্তু বর্তমানে কোভিড পরিস্থিতি বৃদ্ধি পাওয়ায় মেলা কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তা আপাতত স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আমরা ৫০ তম শরৎ মেলা করবো বলে জানান তিনি।
এদিকে এই মেলা স্থগিত হয়ে যাওয়ায় স্বাভাবিক ভাবেই কিছুটা হতাশা ওই এলাকার সাধারণ মানুষ। তবে বতর্মান পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করে মেলা কমিটির এই সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানিয়েছে বহু সাধারণ মানুষও।